Ghaul Pisach I Animated Horror Story I Bengali Horror Animation I Kuhok Animation I
By Kuhok Animation
Summary
## Key takeaways - **ঘাউল কী: পিশাচের অধিকৃত দেহ**: ঘাউল একটি পিশাচ যারা পিশাচ সাধনা করে মারা যায় তাদের দেহ পিশাচ দখল করে নেয় এবং সেই দেহ কখনো পোড়াতে দেয় না। [24:36], [24:54] - **ঘাউল আক্রমণের আসল কারণ**: পীর বাবা ব্যাখ্যা করেন রহিম বুড়ির কোনো ক্ষতি করেনি, কিন্তু লাশ পোড়াতে নিয়ে যাওয়ায় পিশাচ তাকে ছাড়তে চায়নি। [25:08], [25:29] - **আল্লাহর দরগা অদৃশ্য ঢাল**: পীর বাবা দরজা খুলে দেখান অদৃশ্য শক্তি পিশাচদের দরগার ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে, ফলে রহিম সেই রাতে নিরাপদ ছিল। [22:53], [23:16] - **দুই হাজার টাকার প্রলোভন**: গরিব ভ্যানচালক রহিমের কাছে ২০০০ টাকা ১০-১৫ দিনের রোজগারের সমান ছিল, তাই সে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রাজি হয়ে যায়। [11:21], [11:54] - **শুভ-অশুভ শক্তির ভারসাম্য**: সুকুমার বাবু তাঁর কাহিনি শেষে বলেন, পৃথিবীতে অশুভ শক্তির পাশাপাশি শুভ শক্তিও আছে যা মানুষকে রক্ষা করে, নাহলে পৃথিবী টিকতো না। [28:04], [28:28] - **রহস্যময় পীর বাবার অন্তর্ধান**: রহিম সারারাত দরগায় ছিল, কিন্তু সকালে পীর বাবা উধাও; অথচ ডোম জানায় লাশ পৌঁছে পুড়েও গেছে - এই রহস্যের কোনো ব্যাখ্যা গল্পে নেই। [27:15], [27:47]
Topics Covered
- দারিদ্র্য ভয়কে হার মানায়
- পিশাচের সাধনা মৃত্যুকেও অতিক্রম করে
- অশুভ আর শুভ শক্তির ভারসাম্যই বিশ্বের মূল
Full Transcript
[মিউজিক] সন্ধে শেষ হয়ে তখন রাত নাব্বু নাব্যু
করছে। ভরা আষাড় মাস। সমস্ত আকাশটা ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে।
বড় বড় শিমুল গাছের ডালগুলো হাওয়ায় দুলছে যেন অন্ধকারের মধ্যে থেকে কোন অস্পষ্ট হাত ইশারা করে ডাকছে।
সেই নিস্তব্ধ গ্রাম্য পথ ধরেই একা একা মামাবাড়ি যাচ্ছে বিলু। যেকোনো সময় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে।
তাই বিলু চলছে বেশ জোরে জোরে সাইকেল চালিয়ে। ওর মামারা অবশ্য এখন চাকরি নিয়ে সবাই
শহরে থাকে। মামা বাড়িতে লোক বলতে দুটি। দাদু আর দিদিমা। সাইকেলটা রেখেই বিলু চটপট হাক পাড়লো। [মিউজিক]
দাদু ও দাদু দাদু ও দিদিমা বিলুর ডাক শুনে ওর দাদু সুকুমার বাবু বেরিয়ে এলেন
বিলু এলি বাবা আয় আয় ঘরে আয় ঘরে আয় এত দেরি করলি কেন দাদুভাই তোর দিদিমা কখন থেকে গরম গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভেজে
রেখেছে তোর জন্য। তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে নে। আমরা দুজনে পাত পেরে খেতে বসি। এরপর দাদু আর নাতি একসঙ্গে পাত পেরে খেতে
বসে। এদিকে বাইরে তখন অঝোরধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বিলু সেদিকে তাকিয়ে বলে ওঠে
ও দিদার হাতের গরম গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা। আর সঙ্গে এই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আর
কি চাই বলো দাদু? একটা একটা গল্প বলো না গো। একটা ভূতের গল্প শুনতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কতদিন তোমার মুখে গল্প শুনি না।
সুকুমার বাবু বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, গল্প।
আচ্ছা তোকে আজ একখান ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প শোনাবো। এই গল্পতে আমিও আছি।
এটা একটা ঘাউলের গল্প। ঘাউল ঘাউল কি দাদু?
সেটা সেটা জানতে হলে তো দাদুভাই তোমাকে পুরো গল্পটা শুনতে হবে আগে। এই বলে সুকুমার বাবু গল্প বলতে শুরু করলেন।
আষাড় মাসের সেই দিনটা ছিল বড়ই দুর্যোগের। সকাল থেকেই অঝরে বৃষ্টি হয়ে চলেছে।
আকাশে ঘন কালো মেঘ মুখ ভার করে রেখেছে। রসুলপুর গায়ের ভ্যানওয়ালা রহিম আর ওর বউ মেহরুন্নিসা
ওদের ঘরের দাওয়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে করুণ মুখে। উফ সকাল থেকেই এমন বৃষ্টি হয়ে চলেছে আজকে
ভ্যানটা নিয়ে একবারের জন্য বেরোতেও পারলাম না। তাই তো গো এমন আকাশভাঙ্গা বৃষ্টি হলো এর
মধ্যে কেমন করে বেরোবে বল দেখি। চল চল বউ চল। ঘরে চল। বাদলাটা আরো বাড়ছে। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলেই তুই জরে পড়বিনি।
এরপর ওরা দুজনে ঘরে চলে যায়। কিন্তু মেহরুন্নিসা ভাবছিল অন্য কথা। ঘরে একমুঠো চালও অবশিষ্ট নেই। ভ্যান চালিয়ে যতটুকু
রোজগার করে তার স্বামী রহিম। এই কদিনে সেই পুঁজিটাও শেষ হয়ে গেছে। কদিন ধরেই এই দুর্যোগ চলছে।
শোয়ারি জোটেনি কোন রহিমের ভ্যানটা বাইরে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে একা একা ভিজে জালনা দিয়ে সেদিকে তাকিয়ে হতাশ স্বরে বলে
ওঠে মেহরুন্নেসা একেই বলে কপাল ঘরে এক ফোঁটা আনাজ নেই আর আজ কদিন ধরেই এমন বৃষ্টি শুরু হল
কদিন ধরে এমনিতেই তেমন কাজটাজ পাচ্ছিলাম না তাই তেমন রোজগারপাতিও হয়নি তার উপরে
আজকে এমন শিয়াল কুকুর তাড়ানো বৃষ্টি শুরু হলো। আল্লাহ কি যে করি যা সামান্য কিছু ঘরে ছিল তাতে মেরে কেটে
আজকের দিনটা কোনমতে চালালাম। কিন্তু কালকে কিভাবে চলবে?
কি আর বলবো বউ? তুই এমন একটা স্বামী পেয়েছিস যে ঠিক করে তোরে খাওয়াতেও পারে না।
কথাটা বলার পরেই রহিমের চোখ জলে ভরে ওঠে। মেহরুন্নিসা এগিয়ে এসে ওর সামনে দাঁড়ায়।
কেন এমন করে বলছো? আমার আর মেয়ের জন্য কতটা পরিশ্রম করো তুমি তা কি আর বলার? ও
এক দুদিন না খেলে আমাদের কিছু হবে না। রহিম কিছু বলবে ভেবেও যেন আর বলতে পারে না। ঠিক এমন সময় ওদের দরজাতে ধাক্কা
পড়ে। রহিম এই রহিম কিরে বাড়ি আছিস?
[মিউজিক] কিরে শুনতে পাচ্ছিস? এই রহিম
এত রাতে আমারে আবার কে ডাকে হ্যাঁ আছি খুলতেছি এই বাগলা রাতে কে ডাকতে আসবে বল দেখি না
না না তুমি দরজা খোলো না ও কোন অশুভ ডাক হতে পারে আরে আরে আরে ভয় পেও না তুমি দেখি না একবার কে এই যে দরজাটা খুলে দেখি
রহিম গিয়ে দরজা খুলে দেখে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সুকুমার বাবু। বিলুর দাদু সুকুমার বাবু তখন ইছাপুর গ্রামের প্রধান ছিলেন।
কেউ কোন বিপদে পড়লে বা গ্রামে কোন অসুবিধা হলে সবাই সুকুমার বাবুর কাছেই ছুটে আসতো।
বাবু এ কি আপনি এত দুর্যোগের রাতে? আমার
কাছে?
রহিম একটা খুব দরকারে বলেই তোর কাছে এলাম। তুই তুই কাজটা না করলে খুব বিপদে পড়বো।
কি কাজ বাবু বলুন না। মন দিয়ে শোন। কি করতে হবে? শোন আমি বলি। আর তুই কি জানিস গ্রামের শেষের ওই জটা
বুড়ি মারা গেছে? তাই নাকি বাবু? ওর জটা
বুড়ি কবে মরল?
এই বলেই রহিম কিছুটা আনোনা হয়ে যায়। ওর নিজের চোখে দেখা একটা ঘটনা ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে। গ্রামের শেষে একটা কুড়ে ঘরে
একাই থাকতো জটাবড়ি। কিন্তু সবাই জানতো ও কোন সাধারণ বুড়ি ছিল না।
ভূত প্রেত নিয়ে চর্চা করতো সারাদিন। তাই ওর বাড়ির পাশ দিয়ে খুব দরকার না পড়লে কেউ সচরাচর যাতায়াত করতো না।
সেদিন রহিম পাশের গ্রামে ফ্যান নিয়ে গেছিল। কিছু বেশি টাকা রোজগারের আশায়। কিন্তু কাজ ছেড়ে ফিরতে ফিরতে। অনেকটাই
রাত হয়ে যায় ওর। ওফ আজ বডড দেরি হয়ে গেল। আজ ওই গ্রামের শেষের জংলি মেঠো পথ দিয়েই যেতে হবে। আর
কোন উপায় নেই। এই ভেবে রহিম সেই মেঠো জংলি পথ ধরেই এগোতে থাকে।
কিছুক্ষণ চলার পর যখন রহিম ওই জটা বুড়ির বাড়ির পাশ দিয়ে ভ্যানটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ ওর চোখে পড়ে একটা
ভয়ঙ্কর চেহারা যেন ঘরের ভিতর ঢুকে গেল। এমনকি ও এটাও দেখে যেন কেউ জালনার কাছে দাঁড়িয়ে ওর দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে।
টকটকে লাল দুটো চোখ যেন ওকে গিলে খেতে চাইছে। সে এক ভয়ঙ্কর চেহারা। রহিম তখন ওর ভ্যানের প্যাডেলে জোরে জোরে
চাপ দিয়ে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু বারবার ওর মনে হয় কে যেন ওর ভ্যানের পেছনে বসে আছে। ভয় তখনো আর
ভ্যানের পিছনে তাকাতে পারেনি। একদম বাড়ি ফিরে এসে ভয়ে ভয়ে ভ্যানের পিছনে তাকিয়ে আর কাউকে সেদিন দেখতে পায়নি রহিম।
এইসব ভাবতে ভাবতে কেমন আনমোনা হয়ে পড়েছিল রহিম। হঠাৎ সুকুমার বাবুর ডাকে ওর আবার খুশ ফিরে আসে। এই রহিম শুনছিস? এই কি
ভাবছিস? শোন যা বলছিলাম। হ্যা বাবু বলেন বলেন। আজ বিকেলেই খবরটা পেলাম।
তা আপনি দেখতে গেছিলেন নাকি বাবু? হ্যাঁ
দেখে এসছি। ওফ আর বলিস না কি ভয়ঙ্কর অবস্থা। ওর বাড়ির পাশ দিয়ে গ্রামের দুজন যাচ্ছিল। পচা গন্ধ পেয়ে ওরাই বুঝতে পারে
যে কিছু একটা হয়েছে ওই ঘরের মধ্যে। কিন্তু ওরে তো পোড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এখন এই দুর্যোগের রাতে আর কাউরে তো পাচ্ছি না
ভরসার মত। তুই একমাত্র আছিস আমার ভরসার লোক। এখন ওরে শ্মশানে নিয়ে যাতে হবে। রহিম। আমি জানি এই বৃষ্টি বাদলার রাতে তোকে
বলাটা ঠিক নয়। কিন্তু কি করি বল? এমনিতে
কদিন আগে মারা গেছে তাও তো কিছু বোঝা যাচ্ছে না। তুই না গেলে আর কারে পাবো? আর
শোন তোর চিন্তা নেই। এর জন্য তোরে আমি 2000 টাকা দেবনে। হ্যাঁ। তুই তুই শুধু ও লাশটা শুধু শ্মশানে নিয়ে নামিয়ে দিবি।
2000 টাকার কথা শুনে রহিমের চোখ দুটো জলে ভরে ওঠে। 2000 টাকা রোজগার করতে ওর কমপক্ষে আরো 10 15 দিন লাগবে। সেখানে এই
রাতে কেবল একটা লাশ শ্মশানে নামিয়ে দিয়ে আসলেই ও 2000 টাকা পাবে। ও আর দ্বিতীয়টি ভাবে না। তাড়াতাড়ি করে সম্মতি জানিয়ে
দেয় সুকুমার বাবুকে। হ্যাঁ বাবু। হ্যাঁ। আমি পারবোনি। আমি এখনই যাচ্ছি। এখনই যাচ্ছি। আপনি কোন চিন্তা
করবেন না। অফ এজন্যই বলে ভরসার লোক তুই আমারে বাঁচালি। আর শোন
এই নে এই নে হাজার টাকা তুই আগাম রাখ। তুই তুই শুধু লাশটা নিয়ে গিয়ে ওই শ্মশানে নামিয়ে দিবি। ওখানে ওখানে আমার লোক
থাকবে। কোন অসুবিধা হবে না। কিরে পারবি তো বল?
হ্যাঁ হ্যাঁ বাবু পারবানি কোন অসুবিধা নাই আচ্ছা তাহলে ঠিক আছে আমি চললাম তুই তাহলে
এখনি এখনি জটাপুরির বাড়ির দিকে যা রওনা দে বৃষ্টি বাদলা আবার বেড়ে যাবে না কখন বাবু আপনি যাবেন না না আমি যাচ্ছি না আমার
দুজন লোক ওখানে রয়েছে তোকে সবরকম সাহায্য করে দেবে বুঝলি তুই আর দেরি করিস না রহিম তাড়াতাড়ি বের বেরো আমি তাহলে আসি এখন
চললাম তুই চলে যাস সাবধান মত যাস এই বলে সুকুমার বাবু রহিমের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান
মেহরুন্নিসা সব কথাই ঘরের ভেতর থেকে শুনছিল সুকুমার বাবু চলে যাওয়ার পর মেহরুন্নিসা রহিমকে বলে তুমি কি পাগল হলে
নাকি সবাই বলে ওই বুড়ি আত্মা ডাকতো এমনকি অনেকে ওকে কাঁচা মাংস খেতেও দেখেছে।
আর এমন বৃষ্টির রাতে ওই বুড়ির মরা লাশ নিয়ে শ্মশানে যাবে। থাক দরকার নেই গো। আমাদের ঠিক কষ্ট করে চলে যাবে।
আরে না না বউ তাই হয় নাকি? আমি আগাম টাকা নিয়ে নিয়েছি। আর একটা শুধু লাশ শ্মশানে নামিয়ে দিয়েই চলে আসবো। সেখানে দুটো হাজার
টাকা পাওয়া যাবে। সেই সুযোগ কি করে ছাড়ি বল? আচ্ছা আর দেরি করা যাবে না বুঝে আমি
বল? আচ্ছা আর দেরি করা যাবে না বুঝে আমি এখন যাই নইলে ঢের দেরি হয়ে যাবে ফিরতে রহিম ওর বউকে বিদায় জানিয়ে ভ্যান নিয়ে
বেরিয়ে পড়ে জটা বুড়ির বাড়ির দিকে মেহরুন্নিসা দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে রহিমের চলে যাওয়ার দিকে তত সময় তাকিয়ে
থাকে যতক্ষণ না ও অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। কিছু সময় পর রহিম জটা বুড়ির
বাড়িতে উপস্থিত হল। এখানে অন্ধকার যেন আরো বেশি। ভ্যান রেখে ও ধীরে ধীরে জটা বুড়ির ঘরে ঢোকে।
ঘরে ঢুকতেই গা গুলিয়ে ওঠে রহিমের। কি ভীষণ পচা গন্ধ বেরোচ্ছে। ঘরের এক কোণে চোখ
খোলা অবস্থায় পড়ে আছে জটা বুড়ির লাশ। লাশ থেকে গন্ধ বেরচ্ছে প্রচন্ড। বোঝাই যাচ্ছে
অন্তত দুই চার দিন আগে মরেছে বুড়ি। ঘরের এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে আছে অদ্ভুত সব জিনিস।
পোড়া কাঠ, মাথার খুলি, পাখির কালো পালক, ভাঙ্গা সরা আরো কত রকম কি। [মিউজিক]
আরে রহিম এ কি অত ভাবছিস তাড়াতাড়ি এদিকে আয় লাশটা ধরে তুলতে হবে তো
আরে তাপস তুই একা সুকুমার বাবু যে বললেন দুইজন থাকবে এই রাতে কে আসবে এখানে আমাকে বাবু 500
টাকা দিল আমার টাকা পয়সার খুব দর দরকার আছে তাই জন্য আমি আসলাম আর আমি তো অপেক্ষা করছি কেউ আসবে নাতো এই যে লাশের অবস্থা
তাতো নিয়ে যাওয়া বেজায় কঠিন আচ্ছা আচ্ছা থাক আর কথা বাড়াসনি তাড়াতাড়ি কর আবার বাড়ি ফিরতে হবে জটা
বুড়ির লাশ তুলতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হলো দুজনের মনে হচ্ছে যেন একটা শরীরের ভেতর আরো
অনেকগুলো শরীরে এসে বাসা বেঁধেছে বাপরে বাপ এ কি ভার রহিম
হে তাপর অনেক লাশ ভ্যানে তুলেছি তবে এই লাশ ওরে বাবা তখনই রহিমের যেন মনে হলো বুড়িটার চোখ যেন
একবার নড়ে উঠলো রহিম আবার তাকাতেই সে দেখে জটা বুড়ির চোখ বন্ধ। কিন্তু এক্ষুনি তো
চোখ দুটো খোলা ছিল। তাহলে তাহলে কি এতটা ভুল দেখলো রহিম?
দুজনে মিলে অতি কষ্টে ভ্যানে বড়ির লাশটা তুলতে পারল। এরপর লাশের উপর কালো প্লাস্টিক চাপিয়ে সেটাকে ভালো করে
ভ্যানের সঙ্গে বেঁধে নিল। হ্যা এবার হয়েছে। ভালো করে বাধন দাদন দিয়ে দিয়েছি। এ লাশ আর পড়বে না তোর ভ্যান
থেকে। এবার আমি চলি বুঝলি? আর থাকবো না। তুই সোজা শ্মশান নিয়ে চলে যা। আর দেরি করিস না। আমি এখন চললাম।
রহিম ভাবলো তাপসকে একবার বলবে যে ও যেন ওর সঙ্গে যায়। কিন্তু নিমেশের মধ্যেই তাপস সেখান থেকে চলে গেল।
রহিম অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বুড়ির লাশ নিয়ে ভ্যানে প্যাডেল দেওয়া শুরু করল। রহিম ভ্যান নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়
শ্মশানের দিকে। কিন্তু কপালে দুর্ভোগ থাকলে আর কি করা যাবে? রহিম ভ্যান নিয়ে কিছুদূর যেতে না যেতেই অঝোর ধারায় আবার
বৃষ্টি শুরু হলো। সাথে ঝোড়ো হাওয়া। আবার বৃষ্টি। এখন যে কি করি আর সময় পেল না বৃষ্টির আমার।
বৃষ্টির বেগ বেশ জোরেই শুরু হলো দেখতে দেখতে। রহিম মাঝে মাঝেই একবার করে ভ্যানের পিছনে তাকাতে থাকে।
কালো প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো লাশটা ভেজার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু কেমন যেন অস্বস্তি হতে থাকে রহিমের মনে।
কিন্তু হঠাৎ করেই রহিম শুনতে পায় পেছন থেকে যেন একটা আওয়াজ ভেসে এলো। কিরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস আমাকে?
খেন গলাতে সেই আওয়াজটা শুনে আতঙ্কে কেঁপে ওঠে রহিম। নিমেশে ভ্যান চালানো থামিয়ে কাঁপতে কাঁপতে পেছনের দিকে তাকায়।
কিন্তু জটা বুড়ির লাশ তো ঠিক অমনভাবেই ভ্যানে শোয়ানো আছে যেমনভাবে ওরা দুজন রেখেছিল। আওয়াজটা কি আমি এতটাই ভুল শুনলাম
কি জানি যাই তাড়াতাড়ি এগই আমাকে শ্মশানে পড়াতে নিয়ে যাচ্ছিস বুঝি কিন্তু পারবি না যে
রহিম এবার পরিষ্কার বুঝলো কথাটা ঠিক ওর পিছন থেকেই আসছে রহিম দেখে ভ্যানের পিছনে রাখা জটা বুড়ির
লাশ উঠে বসেছে। আর সেটা যেন তাকিয়ে আছে ওর দিকেই। চোখ দুটো পুরো লাল। সাদা
চুলগুলো হাওয়ায় উঠছে। মুখের একপাশ থেকে কালো রসের মত কি যেন বেরিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, ভ্যানের ঠিক পিছনেই
দাঁড়িয়ে আছে আরো দুটো কালো ছায়া। তাদের চেহারা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু উপস্থিতি বোঝা যাচ্ছে।
কিরে আমাকে শ্মশানে পোড়াতে নিয়ে যাবি না?
রহিমের মুখ দিয়ে কথা বলার মত কোন শব্দ আর বের হচ্ছে না। তুই যতই চেষ্টা কর আমাকে শ্মশানে নিয়ে
যেতে পারবি না ে। আর আমাকে পড়ানোর চেষ্টা করলে তুইও বাজবি না।
লম্বা লিকলিকে হাত দুটো যেন সারাসির মত এগিয়ে আসছে রহিমের গলার দিকে। রহিম বুঝতে পারে এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে আর রক্ষা নাই।
তাই ও পাশের মাঠে নেমে দৌড়াতে শুরু করে। ও জানে মাঠ বেরলেই একটা পুরনো মাজার আছে। যদি ওখানে কোন মতে ও পৌঁছায় তাহলেই
একমাত্র ও বাঁচতে পারবে। প্রাণপনে সেই মাঠের মধ্যে থেকে দৌড়াতে থাকে রহিম। ওর পিছনে যে কেউ ধাওয়া করে আসছে সেটা আন্দাজ
করতে পারে রহিম। একবার পিছনে তাকাতে ও দেখে সেই জটা বুড়ির লাশ হাত বাড়িয়ে ওর দিকে এগিয়ে আসছে। [মিউজিক]
কোন মতে দৌড়াতে দৌড়াতে রহিম সেই মাজারে পৌঁছায়। মাজারের দরজা খোলা। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয়
রহিম। কে কেলি?
কে তুই?
হাপাতে হাপাতে রহিম তাকিয়ে দেখে একজন পীর বাবা মায়া জড়ানো চোখে রহিমের দিকেই তাকিয়ে আছেন তিনি
পীর বাবা পীর বাবা আমাকে বাঁচান বাবা না হলে না হলে ওরা ওরা বাইরে আছে আমাকে আমাকে এক্ষুনি মেরে ফেলবে মেরে ফেলবে
তুই শান্ত কিছু সময় আগেই যখন পিদিনটা বারুয়ে কেপে নিভে গেছিল তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম কোন
অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে। ঠিক কি হয়েছে আমাকে খুলে বলতো। রহিমের পর এক নিঃশ্বাসে ওর সঙ্গে ঘটা সব
কথা পীর বাবাকে জানায়। দাড়া দাড়া আমি দেখছি। দাড়া পীর বাবা রহিমের সব কথা শুনে দরজার দিকে
এগিয়ে যান। না না বাবা না বাবা আপনি আপনি ওই দরজা খুলবেন না। ওরা ওরা ওরা আমাকে ছাড়বে না।
ছাড়বে না। তুই যখন আল্লাহর ঘরে এসছিস তখন কেউ তোর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তুই শান্ত হ।
এই বলে দরজা খোলেন পীর বাবা। রহিম ওর পিছনে দাঁড়িয়ে দরজা খুলতেই দেখা যায় দরগা থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে সেই
ভয়ঙ্কর দেখতে লাশ আর সেই কালো চেহারাগুলো ওরা যেন চাইছে দরগার ভিতর আসার কিন্তু কোন
অদৃশ্য শক্তি ওদের বারবার আটকে দিচ্ছে [প্রশংসা] ওকে বাইরে বের করে দে না হলে তাহলে তোকেও
কিন্তু ছাড়বো না। ও আজকে আর বাঁচবে না। কি হলো? বের করে দে। বের করে দে ওকে বাইরে।
হলো? বের করে দে। বের করে দে ওকে বাইরে। একদম চুপ। একদম চুপ। ওখানেই থাম। আল্লাহর ঘরে থাকা
ওর সন্তানকে মারার কথা তুই বলছিস। তোর এত সাহস ওর কিচ্ছু হবে না।
এই বলেই দরজা বন্ধ করে দেন পীর বাবা। বাইরে তখনো বিকট আওয়াজ চিৎকার করে চলেছে।
তুই তুই জানিস ওটা কে? ওটা ওটা জটা বুড়ি বাবা আমাদের গ্রামের শেষে থাকতো। কিন্তু
এমন যে কি করে হলো ঠিক বুঝতে পারছি না। ওর শরীরে ঘাউল বাসা বেঁধেছে। ঘাউল
ঘাউল ঘাউল মানে কি বাবা? ঘাউল মানে কি?
ঘাউল এক পিশাচ। ওই বুড়ি নিশ্চয়ই পিশাচের সাধনা করত। আর যারা পিশাচের সাধনা করে তারা মারা গেলে ওই
দেহ পিশাচের হয়ে যায়। পিশাচ কিছুতেই ওই দেহ পোড়াতে দেয় না। আর পিছনে যে কালো ছায়া
দেখছিস ওরাও পিশাচ। তবে ওরা ঘাউলের মত অত শক্তিশালী না। তাহলে তাহলে গ্রামের সবাই
ঠিকই বলতো। আর আমিও আন্দাজ করেছিলাম। ওই বুড়ি ওই জটা বুড়ি আত্মাদের ডাকতো। কিন্তু
কিন্তু বাবা ও আমাকে মারতে চাইছে কেন? আমি
তো ওর কোন ক্ষতি করিনি। না তুই ওর কোন ক্ষতি করিসনি। কিন্তু যেহেতু তুই ওকে পোড়াতে নিয়ে
যাচ্ছিস তাই তাই তোকে ওর ছাড়তে চাইছে না। তাহলে তাহলে তাহলে কি হবে বাবা? আমি আমি
কি আর বাঁচবো না?
কে বলেছে তুই বাঁচবি না। তুই আল্লাহর দরগায় এসছিস। কেউ তোর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তোর কোন ভয় নেই। আমি সব
ব্যবস্থা করছি। তবে আজ রাতটা তুই এখানেই থাক। কাল সকাল হলে ফিরবি। দরজার বাইরে তখন
আর কোন আওয়াজ আসছে না। কিছু সময় পর রহিম দরগার ভিতরেই ঘুমিয়ে পড়ে। [মিউজিক]
পরের দিন সকালে রহিমের যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন ও দেখে পীর বাবা নেই। অনেক খুঁজেও রহিম পীর বাবাকে দেখতে পায়
না। ভাইরে ওর ভ্যানটা তেমনি দাঁড় করানো। রোদ ঝলমল সকাল যেন আগের রাতে সব অন্ধকার কেড়ে নিয়েছে।
দরগা থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে ভ্যান নিয়ে বাড়ির পথে এগিয়ে যায় রহিম। ও বাড়িতে গিয়ে দেখে সুকুমার বাবু ওখানেই।
[মিউজিক] এই যে রহিম এছিস এত দেরি করলি ওফ আমরা খুব চিন্তা করছিলাম
শোন ডোম খবর পাঠিয়েছে যে সব ঠিকঠাক ভাবে কাজ হয়ে গেছে তুই খুব ভালোভাবে লাশটা নিয়ে পৌঁছেছিলিস তোকে টাকা দেওয়ার জন্য বসে আছি এই নে তোর
বাকি টাকা [মিউজিক] পুড়ানোর কাজও সব হয়ে গেছে। সত্যি রহিম তুই
না থাকলে যে কি হতো? খুব ভালো কাজ করেছিস। রহিমের কানে যেন কোন কথাই তখন ঠিকমত ঢুকছে
না। ও তো সারারাত দরগার ভিতরেই ছিল। তাহলে লাশ নিয়ে শ্মশানে ডোমের কাছে কে গেছিল। আর পীর বাবাকেই আর সকালে খুঁজে পাওয়া গেল না
কেন?
[মিউজিক] বুঝলে দাদুভাই রহিম আমার থেকে টাকাগুলো নিয়ে মাথায় ঠেকায়। এরপর গত রাতের সব
ঘটনা ও আমাদের খুলে বলে দরগার ওই পীর যে আল্লাহর দূত তার আমাদের বুঝতে অসুবিধা থাকে না।
বুঝলে দাদুভাই এই পৃথিবীতে যেমন অশুভ শক্তি আছে তেমনিই তাদের থেকে রক্ষা করতে
শুভ শক্তিও আছে। তা না হলে পৃথিবী টিকতো না।
এই বলে সুকুমার বাবু উনার গল্প শেষ করেন। অবাক দৃষ্টিতে দাদুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বিলু।
[মিউজিক]
Loading video analysis...