LongCut logo

ইরানের আসল শক্তি কি পরমাণু অস্ত্র? | Iran nuclear | Ekattor TV

By Ekattor TV

Summary

Topics Covered

  • ড্রোন-মিসাইলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জবাব
  • পারমাণবিক নীতি বদলের ঐতিহাসিক ঘোষণা
  • ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম: ১১-১২ বোমার সক্ষমতা
  • ওয়াশিংটনের সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে

Full Transcript

পেন্টাগনের ঘুম হারাম। পশ্চিমাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। আর ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে বাধছে চরম সতর্ক সংকেত। দিনের পর দিন হামলা চালিয়েও যে ইরানকে বশ করা যায়নি সেই তেহরান এবার এমন এক বার্তা

দিয়েছে যা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে এক নিমিষে বদলে দিতে পারে। আমেরিকান আগ্রাসনের করার জবাব দিতে এবার কি পরমাণু বোমার বোতামে আঙ্গুল ছোয়াতে

চলেছে ইরান। এতদিন যাচ্ছিল শুধুই গুঞ্জন তাই এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাদাগিরি চূর্ণ করতে পরমাণু নীতি বা নিউক্লিয়ার ডকট্রিন পুরোপুরি বদলে ফেলার চূড়ান্ত হুংকার

দিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্টকম একের পর এক সামরিক হামলা চালিয়ে ভেবেছিল তারা ইরানের মনোবল ভেঙে দেবে। জর্ডান, কুয়েত কিংবা বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে রক্ষাকবজ

বানিয়ে একের পর এক বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হানছে ওয়াশিংটন। কিন্তু তারা ভুলেই গিয়েছিল ইরান এমন এক পরাশক্তি যাদের আঘাত করলে তা দ্বিগুন গতিতে শত্রুর বুকে ফিরিয়ে দেয়ার অদম্য সাহসিকতা তাদের

রয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাটিগুলোতে ড্রোন ও মিসাইলের অগ্নিবৃষ্টি ঘটিয়েছে তেহরানের বীরসেনারা। কিন্তু এবার যুদ্ধ আর

কেবল সাধারণ মিসাইল কিংবা ড্রোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। যুক্তরাষ্ট্র যখন সব সীমা অতিক্রম করে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাতের দুঃসাহস

দেখাচ্ছে তখন তেহরানো তাদের সবচেয়ে বিধ্বংসী চালটি চালতে যাচ্ছে। ইব্রাহিম রেজায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য। পাল্টে যাচ্ছে পরমাণু নীতি। ইরানের প্রভাবশালী আইন প্রনেতা ইব্রাহিম রেজাই

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্ট করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মূল ভীত নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যেকোনো মার্কিন হামলা

আমাদের পারমাণবিক নীতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করার জোরালো কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতদিন ইরান বলে এসেছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি কেবল শান্তি ও বেসামরিক কাজের

জন্য। কিন্তু আমেরিকান আগ্রাসন যখন দেশটির অস্তিত্বের উপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তখন তেহরানের কট্টরপন্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধের শেষ হাতিয়ার হিসেবে এবার পারমাণবিক অস্ত্র

অর্জনই একমাত্র পথ। 400 কেজি ইউরেনিয়াম ও পশ্চিমাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কেন ভয়ে কাপছে? কারণ হিসাবটা অত্যন্ত পরিষ্কার। ইরানের কাছে ইতিমধ্যেই রয়েছে

70 শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় 400 কেজি ইউরেনিয়াম? আন্তর্জাতিক সামরিক

ইউরেনিয়াম? আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে তেহরান চাইলেই অনায়াসে 11 থেকে 12 টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলতে পারে। আর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন

করতে তাদের সময় লাগবে খুব অল্প। আমেরিকান থিংক ট্যাংক জেএনএস এর গবেষক জারো এল রোগইনের মতো অনেকেই তো দাবি করছেন ইরান নাকি ইতিমধ্যেই গোপনে 35 টিরও বেশি

পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে রেখেছে। যদিও এর আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে মূল সত্য হলো টেহরান এখন পারমাণবিক ক্ষমতার একেবারেই দৌরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। আমেরিকা বা ইসরাইল যদি আরেকটি ভুল পদক্ষেপ

নেয় তবে কোন ঘোষণা ছাড়াই বিশ্ব দেখবে পারমাণবিক শক্তি সম্পন্ন এক নতুন ইরানকে। যে সংঘাত শুরু করেছিল ওয়াশিংটন তার পরিণতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে

গেছে। তেহরান আর কোন আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে নেই। তারা এখন প্রতি আক্রমণের অজ্ঞভাবে। ইরান আজ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতা নয় বরং পরাশক্তিগুলোর চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙ্গুল

দেখানো এক অদম্য নায়ক। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা কখন তেহরান থেকে আসবে সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকান শক্তির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে।

Loading...

Loading video analysis...